বেতাগীতে কনকনে শীতে বিপর্যস্থ জনজীবন বেতাগী (বরগুনা)
আপলোড সময় :
২৫-১২-২০২৫ ১১:৩৩:২৯ পূর্বাহ্ন
বরগুনার বেতাগী উপজেলায় কনকনে শীতের তীব্রতায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সকাল থেকেই ঘনকুয়াশা ও হিমেল হাওয়া। কুয়াশার চাদর ভেদ করে সূর্যের মুখ দেখা যাচ্ছে না। কয়েকদিন ধরে ভোর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে কাঁপছে পুরো এলাকা।
শীতের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষ, শিশু ও বয়স্করা। নিম্নআয়ের মানুষের ঘরে শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্ট যেন আরো বেড়েছে।
বরিশাল আবহাওয়া অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮১ শতাংশ। তবে হিমেল হাওয়া এবং সেই সাথে ঘনকুয়াশা বলবদ থাকবে আরো কয়েকদিন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোরের দিকে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। কৃষকরা মাঠে কাজে যেতে দেরি করছেন, শ্রমজীবী মানুষ কাজে বের হলেও শরীর ঢাকার পর্যাপ্ত কাপড় না থাকায় অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। বিশেষ করে খোলা জায়গায় কাজ করা শ্রমিক ও নদীপাড়ের জেলেরা শীতের কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ঘনকুয়াশা ও তীব্র শীতে শ্রমিক এবং রিকশা চালকদের উপস্থিতি কম দেখা যাচ্ছে।
বেতাগী পৌর শহরের রিকশাচালক বিমল প্রামানিক বলেন, ‘সংসারের ছেলেমেয়েদের বাজার করতে হবে। এ ছাড়া কিস্তির টাকার সংগ্রহ করতে হবে। এ কারণে কনকনে শীতেও রিকশা নিয়ে বের হতে হচ্ছে।’
শীতের প্রভাবে বেতাগীর সড়ক ও নদীপথে চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। ঘন কুয়াশার কারণে সকালবেলায় যানবাহন চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে।
অনেক সময় দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে।
শীতজনিত রোগও বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ঠাণ্ডাজনিত সর্দি-কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক রোগীর চাপ তুলনামূলক বেশি। চিকিৎসকরা প্রয়োজন ছাড়া ভোরে বা রাতে বাইরে বের না হতে এবং গরম কাপড় ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন।
এদিকে শীতের তীব্রতায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরাও। বোরো ধানের বীজতলা ও শীতকালীন সবজি ক্ষেত কুয়াশা ও ঠাণ্ডায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলো শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কিছু এলাকায় কম্বল বিতরণ শুরু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে অভিযোগ রয়েছে। শীতের এই দাপটে দ্রুত আরো বেশি শীতবস্ত্র বিতরণ ও সরকারি সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
বেতাগীতে কনকনে শীত এখন জনজীবনের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়্যাদ আমারুল ইসলাম বলেন, ‘প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে ঠাণ্ডাজনিত সর্দি, কাশি, বুকের ইনফ্লুয়েঞ্জা, জ্বর হতে পারে। ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় শিশু ও বয়স্কদের গরম খাবার খেতে হবে এবং সবসময় শুকনো কাপড় পড়তে হবে। আক্রান্ত হলে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে হবে।’
কমেন্ট বক্স